কেস সনাক্তকরণ, আইসোলেশন, চিকিৎসায় গুরুত্ব ডব্লিউএইচও-এর

ডব্লিউএইচও-এর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং

যখন ব্যাপকহারে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ হচ্ছে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে, এরকম সময়ে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর প্রতি দৃঢ় সংঘবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গী (Stronger whole of Society and Stronger whole of government) নিয়ে ঐক্যভাবে কাজ করার আহবান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। ৩ এপ্রিল প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়-এটি এমন একটি পদক্ষেপ যেখানে শুধু ব্যক্তি নয় বরং নিজের পরিবার, প্রতিবেশি, সমাজের সবাইকে নিয়ে একযোগে কাজ করা যাবে। এটা করতে পারলে ব্যাপক প্রানহানি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলেছে সংস্থাটি। ডব্লিউএইচও-এর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেছেন – “কমিউনিটিকে কেন্দ্রে রেখে ব্যাপকভাবে কাজ করতে হবে। যেখানে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপ নেবার সক্ষমতা বাড়ানো দরকার। এক্ষেত্রে প্রত্যেকের উপরেই দায়িত্ব বর্তায়। এই ধাপে এসে সবার অংশগ্রহণই পারে স্বাস্থ্য এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমাতে।” সংবাদে আরো জানানো হয়, গত কয়েক সপ্তাহে এই মহামারী ভাইরাসকে ঠেকাতে উক্ত অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলো শারিরীক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড মিলিয়ে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি মানুষ লকডাউন এর মধ্যে অবস্থান করছেন। সামাজিক সহযোগিতার মাধ্যমে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা এর ফল দেখতে পাবো। স্বাস্থ্য খাতে এই দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিরও এটি একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে। শারিরীক দূরত্ব সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো প্রভাব ফেলেছে এবং সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে, সংক্রমণের মাত্রা যাই হোক না কেন সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি আটকানো সম্ভব। যে অঞ্চলগুলোতে স্থানীয় সংক্রমণ ঘটেছে সেখানেও এটি দমন এবং নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব জানিয়েছন বলেছেন সংস্থাটির আঞ্চলিক প্রধান।

স্হানীয় সংক্রমণের ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘটনা, গোষ্ঠী এবং প্রমাণকে কঠোর নজরদারিতে আনতে হবে এবং মোকাবিলা করতে হবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত মৌলিক বিষয়াদি যেমন- কেস সনাক্তকরণ, আইসোলেশন, টেস্টিং, ট্রিটমেন্ট এবং রোগীরা যাদের সংস্পর্শে এসেছে তাদের খুঁজে বের করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রমাণ সাপেক্ষ পদক্ষেপগুলোও কঠোর তত্ত্বাবধানের আওতায় নিতে হবে। এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের সাথে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে উক্ত চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন ডব্লিউএইচও-এর আঞ্চলিক প্রধান।

অধিকাংশ রাষ্ট্রই মেডিক্যাল সরঞ্জাম, টেস্টিং কীট, স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য পিপিই এর প্রয়োজনীয়তা এবং স্হানীয় সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করেন। ড. ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘পেনডিমিক সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক’ এর সাথে কাজ করে যাবে যাতে করে আক্রান্ত দেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা যায়। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির স্বল্পতা বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং এটার সাথে আক্রান্ত দেশগুলোর তৎপরতাও জড়িত। আমরা যদি আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের রক্ষা করতে না পারি এবং পর্যাপ্ত টেস্ট করতে না পারি তাহলে সেটা এক হাতে যুদ্ধ করার মত। তিনি সবাইকে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থ’র সলিডারিটি ট্রায়েল-এ অংশগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড ইতোমধ্যেই সেখানে যোগ দিয়েছে। এখানে চারটি ভিন্ন রকমের ঔষধের নিরাপত্তা এবং কার্যক্ষমতার তুলনা করা হবে যেগুলো কোভিড-১৯ এর জন্য ব্যবহৃত হবে। এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যেটি কম সময়ে কোন ঔষধগুলো কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য কাজে দেবে তা বের করা সম্ভব। বেশি দেশ যোগ দিলে কাজটি আরো দ্রুততার সাথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। আমি সব দেশগুলোকে এখানে স্বাক্ষর করার জন্য অনুরোধ করছি। তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সংস্থা আরো একটি ট্রায়ালের সূচনা করবে যেখানে সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ভাইরাসের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ণয়ে সাহায্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

 

ফেইসবুকে আমরা