করোনা মোকাবিলায় ‘করোনাদুর্গত সহযোগিতা কেন্দ্রের’ পাঁচ প্রস্তাব

বিবৃতিঃ ৬ এপ্রিল,২০২০

করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় করোনাদুর্গত সহযোগিতা কেন্দ্রের পাঁচটি প্রস্তাব-

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে দুনিয়াজুড়ে ইতোমধ্যে সত্তর হাজারের বেশী মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে চার-পাঁচ হাজারের বেশী। অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণে ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি আরো বেশী। করোনাভাইরাস সংক্রমন ঠেকানোর জন্য বাংলাদেশ প্রায় তিনমাস সময় পেয়েছিল। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ সংকট মোকাবেলায় কোন পরিকল্পিত ও সমন্বিত কর্মসূচি ছিলনা।

শুধু পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকেই দেখা যাচ্ছে, করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। এখন এমনকি কিছু রাস্তায় লাশ পরে থাকতে দেখা যাচ্ছে। করোনাভিন্ন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষেরা এক হাসপাতাল থেকে আর এক হাসপাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন। ঢাকা শহরেই হাসপাতালগুলো সাধারণ চিকিৎসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।এতে বোঝা যায় ঢাকার বাইরে জেলা উপজেলাগুলোর চিত্র এর চাইতে ভাল কিছু নয়। পিপিই-র যোগানে অপ্রতুলতা, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীর আক্রান্ত হওয়া, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার অভাব ইত্যাদি কারণে পুরো স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো ভেঙ্গে পরছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে- ঢাকা শহরের মোড়ে মোড়ে অভুক্ত মানুষেরা ত্রান ও খাবারের আশায় বসে আছেন। ত্রাণ অত্যন্ত অপ্রতুল।সরকারী ব্যবস্থাপনায় যে ত্রাণ বিতরণ সেখানেও দুর্নীতি হচ্ছে।প্রকাশিত হয়েছে- সরকারী আমলা, নেতা-কর্মীদের দ্বারা বিপন্ন-নিরন্ন মানুষদের আরো বেশী করে করোনার ঝুকিতে ঠেলে দিয়ে ত্রান ও টাকা বিলির সেলফি তুলবার মত নির্মম ছবি। ডেঙ্গুর মৌসুমও এগিয়ে আসছে। জনগণকে রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভুমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। প্রকাশিত খবর দিয়ে এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে জনগণ বুঝতে পারছেন বাস্তবতা আর সরকারী প্রচারণার ফারাকটা বিস্তর।প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী, রপ্তানীকারক, মালিকদেরকে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা দিলেও কৃষক, জেলে, তাতী, মজুর, পরিচ্ছনতা কর্মী, ভাসমান ও গৃহহীন মানুষ, নিরন্ন জনগণকে রক্ষা করার কোন প্রচেষ্টা নেই। যা দেশের জনগণের মধ্যে গভীর হতাশার সঞ্চার করেছে।

অন্যদিকে, ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সম্পর্কেঅবৈজ্ঞানিক, মিথ্যা ও বিভ্রান্ত্রির প্রচার এখনও চলছে।এতে সাধারণ মানুষ আরো বেশী করে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকির মধ্যে পরে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, বাঁচতে হলে সবাইকে একসাথে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। তাই আমরা দুর্গত মানুষদের সহায়তার জন্য গঠন করেছি করোনাদুর্গত সহযোগিতা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আমরা অবিলম্বে নিচের দাবীগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পেশ করছি:

রোজগারহীন নিম্নবিত্তদের জন্য বিনামূল্যে তিনবেলা পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার এবং মধ্যবিত্তদের জন্য রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশের সব উপজেলায় বিনামূল্যে সহজলভ্য করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।পর্যাপ্ত পিপিই, প্রশিক্ষণসহ ল্যাবকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।এই মহামারীর সময় জনগণের সেবায় নিযুক্ত চিকিৎসক, সেবিকাসহ সকল স্বাস্থকর্মীকে ঝুঁকিভাতা দিতে হবে ও তাদের জীবন বীমা করতে হবে।

হাসপাতালসমুহে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর, আইসিইউসহ সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যরোগে আক্রান্ত রোগীদেরও চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষক, তাতী, কুমার, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, খামারি, জেলে প্রমুখ প্রান্তিক উৎপাদকদের উৎপাদিত পণ্য ক্রয়ের জন্য সরকারীভাবে ব্যবস্থা করতে হবে, মহামারী মোকাবেলায় তাদের আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে।

করোনা ভাইরাস নিয়ে ইউটিউবসহ অনলাইনে অবৈজ্ঞানিক বিভ্রান্তিমূলক, কাল্পণিক, মিথ্যাচারপূর্ণ ভিডিও, বক্তব্য ইত্যাদি প্রচার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রকৃত তথ্যের স্বাধীন প্রবাহ ও মতপ্রকাশের অধিকারনিশ্চিত করতে হবে এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট বাতিল করতে হবে।

ধন্যবাদসহ

————-( স্বাক্ষরিত )

তানজীমউদ্দিন খান , আহ্বায়ক

মাসুদ খান, সদস্য সচিব

বার্তা প্রেরক,

তপন মাহমুদ লিমন, সমন্বয়ক,আইটি, তথ্যসেল ও মিডিয়া টিম।

করোনাদুর্গত সহযোগিতা কেন্দ্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

 

ফেইসবুকে আমরা